loader
  • Home   >
  • চিকেন চাউমিনের সাথে যেনো কি খেতে হয় ?

চিকেন চাউমিনের সাথে যেনো কি খেতে হয় ?

style

চিকেন চাউমিনের সাথে যেনো কি খেতে হয় ?

এইরকম ভাবেও ভাবা যায় ? আমি জানতাম না , চিকেন চাউমিন কিনতে গিয়ে ভাবিনি যে এরম কম্বিনেশন চেখে দেখাই যায়। সিনেমা হল থেকে বেরিয়েই দোকানে গিয়ে বললাম “একটা চিকেন চাউমিন আর চিলি ফিশ”। দোকানের কর্মচারী আমার দিকে তাকিয়ে বললো – “কিন্তু দিদি তুমি তো এরম খাওনা।” বলতে যাচ্ছিলাম যে মালিক কে বল খোকা এসেছে , কিন্তু সামলে নিতে গিয়েও হোঁচট খেলাম , ওমা মালিক কিনা বলে “আরে এখন তো এটাই হিট , দিয়ে দে।”

বুঝতেই পারছেন কিসের কথা বলছি। বহুচর্চিত সিনেমা দ্বিতীয় পুরুষ। ২০১১ সালের বাইশে শ্রাবনের sequel হলেও একটা স্বতন্ত্র সিনেমা হিসেবে বাঙালির মনে ছাপ ফেলে দিয়েছে দ্বিতীয় পুরুষ। এখানে সিনেমার গল্প বা ছবির Spoiler আমি দেবো না কারণ বিশ্বাস করি যে মার্কেটে আমার মতন এমন অনেক মানুষই (পড়বেন গাধা) আছে যারা ট্রেলার দেখেই বুঝে গেছিলেন গল্প কি ? যদি বুঝেই গিয়ে থাকেন আমি বলবো কেনো ?

তবুও বলি ।

শুরু থেকে শুরু করা যাবেনা এখানে। এখানে শেষেই আছে আসল মজা আর টানটান উত্তেজনা। আপনি যদি বাড়িতে বসে ভাত-ডাল খেতে খেতে ভাবেন যে এতো বুঝেই গেছি , তবে উঠুন আর দেখে আসুন বারবার বলবো। শেষের কয়েকটা মিনিট আপনার মুখ থেকে বেরোবেই “ও , কাকা কি দিলেন” , “এটা কি হলো, এটা তো পুরো উল্টে গেলো।” অনেক বলেছি এবার আসল কথায় আসি।

অনির্বান ভট্টাচার্য কে নিয়ে বেশি বলবোনা , ওনার অভিনয় আগেও ভালো লাগতো আর দ্বিতীয় পুরুষের পর বোঝা গেছে ওনাকে ফিরে তাকাতে হবেনা। টিপিক্যাল রোমিও বা রোমান্টিক হিরোর থেকে বেরিয়ে উনি যে কোনো চরিত্রকে নিজের করে নিতে পারেন। ওনার উপর ক্রাস খেলেও উনি আমার মনে ঘেন্না জাগাতে সক্ষম হয়েছেন।

এবার আসা যাক বাকি চরিত্রদের কথায়। যেহেতু এটা sequel তাই আপনাকে বুঝে নিতে হবে যে অমৃতা অর্থাৎ রাইমা সেন , অভিজিৎ – পরমব্রত এবং সূর্য – আবির যথেষ্ট পরিণত হয়েছে এবং সময়ের সাথে তাদের জীবনে এবং সম্পর্কেও নানান বদল এসেছে।

অভিনয়ের দিকথেকে দেখতে গেলে গল্পের মধ্যমণি হয়ে আছেন অনির্বান এবং পরমব্রত। দুজনের অভিনয় আপনাকে ভাবাবে এবং মুগ্ধ করতে বাধ্য।

রাইমা সেন আর আবির চ্যাটার্জি নিজের নিজের জায়গায় একদমই ঠিক আছেন। খারাপ অভিনয় করা হয়নি তবে চমৎকার কিছুও না। গৌরব এবং বাবুল সুপ্রিয় কে নিয়েও একই মত।

একজনের অভিনয় নিয়ে না বললে পাপ হবার আর সেটা হলো রিতব্রত। পাতি বাংলা ভাষায় ছেলে কাঁপিয়ে দিয়েছে। ওরম aggressiveness আমি অনেক কম অভিনেতা কে ফুটিয়ে তুলতে দেখেছি।

এবার আসি তার কথায় যাকে ছাড়া আজকে দ্বিতীয় পুরুষ হতোনা। সৃজিত মুখার্জি আবারও প্রমান করে দিয়েছেন তিনি থ্রিলার বানাচ্ছেন শুনলেই যেন আগে-বাগে টিকেট বুক করে নেওয়া হয়। গল্পের বুনোট এবং পরিচালনায় তিনি বরাবরই অসাধরণ এবং সেটা আবারো প্রমান করে দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে সিনেমাটা নিয়ে বেশি বলার সাধ্য আমার নেই কারন এরম সিনেমা আমি খুব কমই দেখেছি এবং চাই সৃজিত মুখার্জি এরম কিছু প্লট আমাদের আবারো উপহার দিক আর তার সাথে এরম প্রশংসনীয় অভিনয়ও।

একটা সিনেমায় চাঁদের হাট (একসাথে অনেক প্রিয় অভিনেতা) , উত্তেজনা , প্রেম , ভালোবাসা , হাসি-কান্না , ভয় সব পেয়ে যাবেন। তাড়াতাড়ি গিয়ে দেখে আসুন , জীবনটা বদলে যাবে।

leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial