loader
  • Home   >
  • সখী BTS কারে কয় ? খায় না মাথায় দেয়?

সখী BTS কারে কয় ? খায় না মাথায় দেয়?

style

সখী BTS কারে কয় ? খায় না মাথায় দেয়?

লিখছেন – প্রাপ্তি সরকার

BTS- নাম টা শুনে কিছু জন নাক সিঁটকাবে, আর অনেকেই হয়ত আগ্রহ নিয়ে পড়তে শুরু করবে।

দক্ষিন কোরিয়ার 7টি ছেলের একরাশ স্বপ্নের নাম BTS। আলাদা আলাদা শহর,আলাদা পরিবেশ এর 7টি ছেলে যোগ দেয় একটি ছোট্ট নাম খ্যাতি হীন কোম্পানি তে শিল্পী হবে বলে। সবচেয়ে ছোটো জনের বয়স পনেরোরও কম তখন। দিনরাত এক করে পরিশ্রম করে আয়ত্ত করে নাচ,গান ।

কেউ ভাল ছাত্র হওয়ার উজ্জ্বল ভবিষ্যতকে ছেড়ে বাবা মায়ের অনিচ্ছা সত্ত্বেও লিখছে গান, কেউ পেটের টানে নিজের লেখা গান বেচে দিচ্ছে জলের দরে, রোজ যুদ্ধ করছে নিজের সাথে, কেউ গ্রাম থেকে প্রথম শহরে এসেছে ভবিষ্যতের অন্বেষনে ।

সবার বয়স কুড়ির কম । কিন্তু সবার স্বপ্ন এক । দলের নাম ঠিক হল bulletproof boys।

প্রথম প্রকাশের সাথে সাথেই জুটল ব্যঙ্গ,কুকথা, বঞ্চনা,অপমান । কারন? Nepotism। হ্যাঁ। সব জায়গাতেই আছে । দাঁতে দাঁত চিপে সহ্য করল ওরা।

একসময় ভেবেছিল ছেড়ে দেবে,disband করে দেবে। কিন্তু পারেনি ,একে অন্যের প্রতি ভালবাসা তাদের ছেড়ে যেতে দেয়নি । কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিরোধ করেছে সমস্ত অবসাদ কে। তারপর একদিন তাদের পরিশ্রমের,ধৈর্যের ফল মিলল।

2016 সালে হাতে এল প্রথম artist of the year অ্যাওয়ার্ড। সাথে কোটি কোটি মানুষের ভালবাসা যাদের নাম A.R.M.Y । তারপর এক এক করে song of the year,album of the year পাওয়া ,প্রতি বছর প্রচুর পুরস্কার । 2020 এর most sold album worldwide খেতাব,BBMA Top Social Artist, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় boy band,আরো কত সম্মানে ভূষিত।

এশিয়া মহাদেশ এর একটা ছোট্ট দেশের ইংরাজিতে অপটু ছেলেগুলো নিজের দেশের নাম বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে,তার জন্য দেশের সরকার তাদের দিয়েছে অসামরিক Order of cultural merit যার প্রাপক হিসেবে কোরিয়ার ইতিহাসে তারা কনিষ্ঠতম ।

কি করে?

কারন তাদের গানে দুনিয়া জুড়ে মানুষ খুঁজে পেল নিজেদেরকে । নিজেদের মনের কথা গুলো কেমন সুন্দর করে লেখা থাকে BTS এর গানে। হোক না অন্য ভাষা । BTS শেখাল গানের কোন সীমানা নেই।

অবশ্য এর পেছনে রয়েছে ওদের companyর মালিক  Bang Shi Hyuk  এর অবিচল বিশ্বাস এই ছেলেগুলোর প্রতি ।

“আমার উচিত নিজেকে ভালবাসা,আমার আমি ভীষণ দামি”,

“প্রত্যেকের ভেতরেই আছে নিজের আলো যা দিয়েই তৈরি হযেছে এই সারা ব্রহ্মাণ্ড”,

“পড়ে গেলেও দৌড়নো থামিয়ো না”- এই কথা গুলো ওদের গানের ,যা উৎসাহিত করে চলেছে গুণমুগ্ধ দের আরেকটু চেষ্টা করার,আরেকটু ভালো থাকার।

ছোট্ট আট বছরের মেয়ে চলেছে পঞ্চাশ বছরের দিদিমার হাত ধরে BTS এর কনসার্ট-এ। এ দৃশ্য বিরল নয় ।

 

এছাড়া BTS এর সেবামূলক কাজের ভুরি ভুরি উদাহরণ রয়েছে।

জাতিসংঘ(UN) এর আহ্বানে তারা প্রথম kpop group যারা ভাষণ দিতে গেছিল তাদের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।

BLM আন্দোলন থেকে অসম এর বন্যা,লেবানন এর বিস্ফোরণ- BTS আর তাদের ফ্যানরা অকাতরে সাহায্য করে চলেছে সারা পৃথিবীর মানুষকে ।

আজ BTS ও ARMY সত্যি এক উদাহরণ তারকা দের positive influence এর । BTS এর সেই একরাশ স্বপ্ন দেখা ছেলেগুলো আজ বড় হয়েছে। কিন্তু বদলায় নি তাদের আনুগত্য, চালিকাশক্তি, মূল্যবোধ ।

 

তারা যেন TIME পত্রিকার 100 most influencial person দের একজন নয়,

 

তারা আমার তোমার পাশের বাড়ির ছেলে । সাত জন মিলে যেমন দুষ্টুমি করে একে ওপরের সাথে সারাদিন,তেমন ই একজনের চোখে জল এলে মোছাতে ছুটে আসে বাকি ছয় জন।

দিন দিন মানবতাবোধ হারিয়ে ফেলা এই পৃথিবীতে সত্যি হয়ত দরকার আরও এরকম মানুষ যারা মনে করাবে-
“You never walk alone”

 

image courtesy: Vogue Japan, GQ

leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial